BACK

স্বর্ণমন্দিরের খোঁজে বান্দরবন

বান্দরবনের স্বর্ণমন্দির

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটের পুলপাড়ায় অবস্থিত স্বর্ণমন্দির। এই মন্দির বুদ্ধ ধাতু জাদি, যা বান্দরবান স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত। এটি বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। নাম স্বর্ণ মন্দির হলেও স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কোনো দেব-দেবী এখানে নেই। এটি তার সোনালী রঙের জন্য বর্তমানে স্বর্ণমন্দির নামে খ্যাত। যেকোনো ছুটিতে পরিবার- পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির থেকে।
স্বর্ন মন্দিরের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর অবকাঠামোগত সৌন্দর্যও দেখার মত। মন্দিরের বাইরের অংশে ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠে তিব্বত, চীন, নেপাল, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভূটান, মায়ানমার,কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি দেশের শৈলীতে সৃষ্ট ১২টি দন্ডায়মান বুদ্ধ আবক্ষ মূর্তি এখানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর মন্দিরের অভ্যন্তরে কাঠের উপর অসাধারণ সুন্দর রিলিফ ভাষ্কর্য কর্ম মায়ানমারের কাঠের শিল্প-কর্মের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করায়। মন্দির চত্তরের গড়ুড় স্তম্ভ ও পাখি আপনাকে আকাশে ডাকবে। মন্দির থেকে দেখবেন পূর্বদিকে বান্দরবান শহর ও চারপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়।মায়ানমার থেকে শিল্পী এনে এটি তৈরি করা হয়। ২০০৪ সালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
সোনালী রংয়ের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্য নকশার নিদর্শনস্বরুপ এ স্থানটি সবার খুবই আকর্ষনীয় এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। পর্যটকরা বান্দরবন ঘুরতে এলে স্বর্নমন্দির না দেখে চলে যায় এমন নজির নেই। এখান থেকে সাঙ্গু নদী, বেতার কেন্দ্রসহ বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সহজেই উপভোগ করা যায়। এ মন্দিরের পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এক পুকুর। বৌদ্ধরা এ পুকুরকে সম্মানের চোখে দেখে; কারণ এটি যে দেবতা পুকুর! ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও পূর্ণিমায় এখানে জড়ো হন হাজার হাজার পুণ্যার্থী।
মন্দিরটি পূজারীদের জন্য সারাদিন খোলা থাকে আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থীদের জন্য সকাল ৮:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং বিকেল ১২:৩০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয় ।
প্রবেশ মূল্যঃ জনপ্রতি ২০ টাকা।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার সাথে বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি বান্দরবানে যেতে পারবেন। চাইলে ট্রেনেও যেত পারেন। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম হয়ে তারপরই যেতে হবে। ঢাকা থেকে বান্দরবান পর্যন্ত সরাসরি নন এসি ভাড়া জনপ্রতি ৬২০ টাকা, এসি ৯০০ থেকে ১৩০০টাকা। এস আলম, হানিফ, ইউনিক, শ্যামলি, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি বাস ছাড়ে ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ, কমলাপুর রেল স্টেশনের বিপরীত কাউন্টার থেকে।
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি নন এসি বাস আছে। ৩০ মিনিট পরপর বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১২০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
হোটেল ফোর স্টার, হোটেল হিলটন, হোটেল হিলভিউ, হোটেল সাঙ্গু, হোটেল থ্রি স্টার, হোটেল প্লাজা, হোটেল গ্রিন হিল, হোটেল হিল বার্ড, হোটেল পূরবী, হোটেল রয়েল ছাড়াও অনেক হোটেল রয়েছে। ভাড়া ৪০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।